ফেসবুক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফেসবুক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

আঁধারে রুপা -সাহিদ আহামেদ জিবন


দ্বিতীয় পর্ব
সোহান জাগ্রত হয়েই বলতে লাগলো কে তোমি?
কোথায় থেকে এসেছো এখানে কেন?
উত্তর দিচ্ছো না কেন?
শনশন বাতাসের সাথে উড়ে আসা কাশফুলের খসড়া শুকনো ফুলের অংশ রুপার কর্ণপাতে  স্পর্শ হতেই রুপা তাড়াহুড়া করে জেগে উঠে অচেনা কিশোরের সামনে থেকে দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়। এই চলে যাওয়া  সেই চলে যাওনা নয় সোহানের বুকে মধ্যে যেন পূবালীর বাতাসে প্রেমের ঢেউ বইছে ।এক ফালি দেখার রুপার চেহেরা যেন নানা সুখের রূপ ধারণ করে আকাশের রংধনুকেও হার মানিয়ে সোহানের বুকে ভেসে উঠছে একটা বৃহৎ প্রেমের রংধনু। আকাশের রংধনু তার সাময়িক সময় ফুরিয়ে গেলে সবই শেষ কিন্তু রুপার চেহেরায় যে রংধনু সোহানের বুকে উঠেছে সেটা যেন আর অদৃশ্য হচ্ছে না বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে রুপার রূপকে। কল্পনায় চলে দিন,  দিনের পর মাস তবুও সোহান রুপার প্রতি আরও অস্থির হয়ে যাচ্ছে ।
একদিন সেই নদীর পাড়ে একই যায়গায় রুপাকে দেখে সোহান এগিয়ে যায় রুপা তার উড়নাটি দিয়ে মুখ ঠেকে রেখে সোহানের হাজার প্রেম আর্জি  কথা শুনে রুপা চলে যেতে চাইলে সোহান তার নমনীয় হাতটি শক্তি করে চেপে ধরে বলে,
সোহান : ঐই দিন যখন দেখেছি তোমায় হারিয়েছিলাম এতদিন তোমার মাঝেই আজ তোমি এখানে একা আমি তোমার সঙ্গী হতে এসেছি তোমার একাকীত্ব অবসান করতে এসেছি তোমার একাময় জীবনের সুখ টেনে আনার জন্য আমার অতৃপ্ত হৃদয়ের বাগানের শত শতাব্দীর ধরে জন্ম নেওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্নেহ মায়া মমতার ভালোবাসার বিন্দু গুলো একত্রিত হয়ে আজ তোমাকে প্রেম নিবেদন করছে
রুপা :আপনি কেন এমন করে কথা বলছেন?
আপনার কথা গুলো শুনে যেন আমার বুকের শক্ত প্রেমের দেওয়ালটি ভেঙ্গে ভালোবাসা বেরিয়ে যাচ্ছে ।
কেন আপনার কথা আমাকে এতো দূর্বল করে তুলে?  আপনার কথার বাঁকে আমি হারিয়ে যায় বারবার মিশে যেতে চাই আপনার সাথে ।সোহান আরেকটু কাছে আসুন বাহুবন্ধনে জড়িয়ে ধরে থাকে ।বুকের অদ্রি সমান ভালোবাসা দিয়ে আরও কাছে পেতে চাই।
সোহান :রুপা শুনো আজ. ...........

রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯

*** ভাঙ্গা পিয়ালা ***


                  এম.ড়ি শিমুল
পড়ার অনুরোধ রইলো। ভালো লাগবে আশা করি।
-----আমি যে দেশে থাকি, প্রথমই সে দেশের ভাষা দিয়েই শুরু করি। " UTHANDO " (উঠান্ডো) ইহা একটি দক্ষিণ আফ্রিকার খুবই জনপ্রিয় "JULU " শব্দ। এর আগে আমাকে বলতে হবে "JULU" কি?
----- "JULU " হচ্ছে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর নাম। আমি যতটুকু জানি পৃথিবীতে দ্বিতীয়তম বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী হচ্ছে " JULU " সম্প্রদায়। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে সাহসী ও শক্তিশালী গোষ্ঠীই হচ্ছে "JULU " গোষ্ঠী। আর এই "JULU " গোষ্ঠীর ভাষার নামই হচ্ছে "JULU " ভাষা। আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশেই এই JULU ভাষা ব্যবহৃত হয়।
-----যে ভাষায়ও কথা বলতেন বিশ্বের বর্ণবাদী বৈষম্যের লড়াকু বীর(নবেল বিজয়ী) লেনসন্স ম্যান্ডেলা, নবেল বিজয়ী ডেসমন্ড টুটু, প্রেসিডেন্ট তামামবেগি ও দুইবারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জ্যাকোব জুমা সহ আরো অনেকেই।
-----UTHANDO, একটি julu শব্দ। যে শব্দের ইংরেজি অর্থ হচ্ছে LOVE, আর বাংলা অর্থ হচ্ছে ভালোবাসা।
-----আমি আমার দীর্ঘ ১২ বছরে এ দেশের মানুষের মাঝে " Real love " বলতে যে শব্দটি আছে, তা কোথাও দেখিনি। এখানে আছে শুধু নগ্নতার উন্মাদনা। এখানে কে কতটা বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে শারীরিক উন্মাদনায় মেতে উঠতে পারে তারই বাহাদুরি চলে নিত্যনতুন। এদের সূত্র মতে, নিত্যদিন কেন একই জামা পড়তে হবে? জামার মতো জীবনসঙ্গীর পরিবর্তন চাই।
-----যে যতো গার্লফ্রেন্ড বা বউ নিয়ে বেশি সন্তান জন্ম দিতে পারবে সেই হয় পুরুষ! আর বাকি সবই যেন কাপুরুষ।
-----গেন্না ধরে গেছে এদের এমন চিন্তাভাবনা দেখে। দোকানে আসে গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঠিকই, কিন্তু নজর পড়ে অন্য নতুন শরীরে। একহাতে ঠিকই গার্লফ্রেন্ডের একহাত ধরে রাখে, অন্যহাতে নতুনের নতুন হাত। ফোন নাম্বার নিতে হয়ে পড়ে ব্যাকুল তারা। আর ফোন নাম্বার পেলে তো সবই বাজিমাত। অবশ্য নিজের গার্লফ্রেন্ডটি তখন গর্বের সহিতই বলে, তার বয়ফ্রেন্ডটি একটি পুরুষ।
-----অনেকদিন আগে কবিগুছের একটি লোক প্রায়ই আমার দোকানে আসতো বেশকিছু ডাইরিগুছের খাতা হাতে নিয়ে।
-----আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, কি এইসব?
-----ও, কবি কবি ভাবে গর্বের সহিত আমায় বলেছিল, আমি কিছু লিখি। সমাজ ও সমাজের মানুষকে জাগাতে চেষ্টা করছি।
-----আমি বলেছিলাম, কি লিখিস?
-----ও, বলেছিল, পুরুষ কি? কাহাকে বলে?
-----আমি জানতে চাইতেই সাহিত্যিক ভাবে বলে, যে মানুষ উপার্জনক করে বেশি গার্লফ্রেন্ড বা বউ নিয়ে বেশি সন্তান জন্ম দিয়ে সংসার চালাতে পারে সেই নাকি পুরুষ। আমি একজন লেখকের এমন চিন্তায় না হেসে পারিনি। এদের চিন্তার জগৎ টা কত ছোট্ট।
-----আমি সর্বতই দেখেছি এখানে হৃদয় ঘটিত কোন সম্পর্কই নেই। যা আছে তা যেন শুধুই শারীরিক। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরাও এখানে একই রুমে রুমমেট হিসাবে থাকে রুমের ভাড়াটা সিয়ার করার জন্য। একই রুমে থেকে অবশ্য শারীরিক চাহিদাও সিয়ার করে রুমের ভাড়াটাও উসুল করে ফেলে। সেমিস্টার বা শ্রেণী বদলের সাথে সাথেই অবশ্য মানুষগুলোও বদলাতে ভুল করেনা তারা।
-----আমি এসব দেখে ঘৃণায় ভেবেছিলাম, এসবেই তাদের বসবাস। সবাই মনে হয় একই সুতায় গাঁথা। কিন্তু স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে যে কিছুটা ব্যতিক্রম থাকে তা প্রায় ভুলতেই বসেছিল আমি।
-----আজ একটি ঘটনায় আমার ১২ বছরের দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতাকে নিমিষেই মাটিচাপা দিয়ে চক্ষুকে খোলে দিয়ে গেলো।
-----আমি তখন ক্যাশ কাউন্টারে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য টাকা হিসাব করতে ব্যস্ত। আমার বয়সী একজন নিগ্রো লোক ছলছল চোখে কাকুতি-মিনতি ভরা চোখে কিছু যেন বলতে চাচ্ছে আমায়।
-----আমি বললাম, কিছু বলতে চাস আমায়?
-----ও, বললো, হুম।
-----নতুন একটা ব্যাগ থেকে কি যেন একটা বের করবে এমন একটা ভাব। আমি অনেকটাই বুঝতে পেয়ে নাবোধক ইশারা করে বুঝিয়ে দিলাম যে, আমি নিবো না।
-----চোরের দেশ, এখানে প্রায়ই দোকানে কিছু না কিছু চোর তাদের চোরি করা জিনিস দোকানে বিক্রি করতে আসে। আমিও এমনটাই মনে করেছিলাম। আমি অবশ্য বরাবরই এসব থেকে দূরে থাকি। বলতে পারি, আমি অনেকটা ভয়েই থাকি এসব থেকে। বলতে পারেন, আমি একটা ভীতুরডিম। অবশ্য সস্তার যে দশ অবস্থা তা আমি মনে হয় ভালো করেই জানি।
-----ব্যাগ থেকে একটা ভাঙ্গা পিয়ালা বের করে আমাকে দেয়। আমি তো অবাক!
-----আমি বললাম, আজ বেশি খেয়েছিস নাকি (মদ)।
আমি এটা দিয়ে কি করবো?
-----ও, বলে, আমি এটা জোড়া দিতে চাই।
-----আমি বললাম, ওরে পাগল! একটা সুপারগ্লুর দাম পাচ Rand/ 35 taka. এরচেয়ে তো নতুনই একটা কিনতে পারবি।
-----ও, বলে, আমি এটাই জোড়া দিতে চাই।
------আমি পিয়ালাটা হাতে নিয়ে জোড়া দিয়ে দেখালাম। তাতে মনে হলো পুরোপুরিভাবে জোড়া লাগেনা। কিছু তো পান করা প্রশ্নই আসেনা।
-----আমি যখন পিয়ালাটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম, তখন হাতে যেন কিছু একটা আকাআকি উপলদ্ধি করতে পারছিলাম। আমি তখনো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ঐ আকাআকির মাঝে সুপ্তভাবে কি লুকিয়ে আছে?
-----ও, আমাকে বলে, তুই আমার এই ভাঙ্গা পিয়ালার সাথে অর্থের তুলনা করিস না। অর্থ দিয়ে এটার পরিমাপ করতে পারবিনা। এই ভাঙ্গা পিয়ালাটি আমার জীবনের চেয়েও দামী।
------ও, বলছিল আর চোখে অঝোর ধারায় জল ঝরাচ্ছিল। আমার আর বুঝতে বাকি রইলোনা। তাই ইশারাই বললাম, এটা বুঝি তোর ভীষণ স্মৃতির কারো দেওয়া পিয়ালা।
------ও কাদো কাদো ভাবে মাথা নাড়ছিল আর হাবোধক ইশারা করছিল। আমার ভিতরটা কেমন যেন মুচড় দিয়ে যাচ্ছিল ওর দিকে তাকিয়ে।
------আমি বললাম, এটা বুঝি তোর গার্লফ্রেন্ডের দেওয়া উপহার।
-----ওর মুখে একচিলতে হাসির রেখা অজান্তেই যেন ভেসে উঠেছিল, আবারো দমকা হাওয়ায় নিভু নিভু প্রদীপের মতো যেন আস্তে আস্তে নিভে গিয়ে কালো মেঘে ছেয়ে গেলো। আমি যেন তাই দেখে বুঝতে পারার শেষসীমানা অতিক্রম করে ওর হৃদয়ে সব সুপ্ত কান্নার কারণ আবিষ্কার করে ফেললাম।
------আর বেশি কিছু বলতে পারিনি ওর চোখের জলের কাছে নিজের ভালোবাসার আবেগটাকে পরাজিত করে। তাই তো ভীষণ যত্ন করে পিয়ালাটা নিজ হাতে পরিষ্কার করে সুপারগ্লু দিয়ে সুন্দর করে জোড়া লাগিয়ে দেই। ওর হাতে দিতেই পিয়ালাটি বুকে জড়িয়ে ও মুখে নিয়ে চুমা খেয়ে হুহু করে কেদে উঠে অবুঝ শিশুর মতো।
-----আমি ক্যাশ কাউন্টার থেকে বাহিরে এসে ওকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম ও জানতে চাইলাম সবকিছু।
-----Kwanele is my love. Kwanele is my life. but she is not around my earth. ও, বলে আর কেঁদেকেটে একাকার হয়ে গেলো। ওর কান্নায় আমার ধূসর অনউর্বর বুকের জমিন যেন সহসায় করুণ এক কুয়াশায় ভিজিয়ে দিলো।
-----ও, আমাকে সুপারগ্লুর দাম দিয়ে যেন তাড়াতাড়ি আমায় থেকে পালাবার জন্য একপ্রকার মরিয়া হয়ে গেলো। আমি বুঝতে পারলাম, ওর এখন ভীষণ চিৎকার করে কান্নার প্রয়োজন। যা আমার সামনে কাদতে পারছেনা। এমন অবস্থায় আসলে চিৎকার করে কান্নাটা ভীষণভাবে জরুরি। চিৎকার করে কাদতে পারলেই 'ও' একটু শান্তি পাবে। একটু নিজেকে হালকা করতে পারবে।
-----কিন্তু এইসব বিষয়ে বরাবরই আমার একটু আগ্রহ বেশি কাজ করে। তাই বেহায়া মনটাকে শাসনের বেড়ী পরিয়েও মানিয়ে রাখতে পারিনি। যদিও আমারো বুকের মাঝে একপ্রকার সুপ্ত কান্নারা তখন সারেগামা বাজানো শুরু করেছিল।
-----আমি ওকে বললাম, আমি টাকাগুলো নিবোনা। আমিও তোর ভালোবাসার স্মৃতির সাথে স্মৃতি হয়ে থাকবো বলে অনেক যত্ন করে পিয়ালাটি জোড়া লাগিয়েছি। আমিও যে ভালোবাসাকে তোর মতো ভীষণ সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। তোর স্মৃতির সাথে আমাকেও নয় একটু অংশীদার করে নে। কিন্তু তখনো জানিনা আসল ঘটনাটা কি?
----- আমি ভাঙ্গা ও জোড়া দেওয়া পিয়ালাটার ছবি তুলে রাখি ভালোবাসার স্মৃতির নির্দেশন স্বরূপ। এইসব কিছু করতে পেরে ভালোবাসার নতুন কোন ভাস্কর্য তৈরি করতে পারিনি বলে মনে না হলেও আমি যে ভালোবাসার স্মৃতির জন্য একটা ভাঙ্গা পিয়ালা জোড়া দেওয়ার স্বাক্ষী রয়ে গেলাম এটাও কম কিসের?আমাকে নেহায়েত ছোট কিছু মনে হয়নি তখন।
-----আমি সবকিছু জানতে চাইলে 'ও' বলতে শুরু করে:
-----আমি Kwanele কে খুব ভালোবাসতাম। আমরা এই অসভ্য সমাজে একটু ব্যতিক্রমভাবে ভালোবেসে বাচতে চেয়েছিলাম। আমরা আসলেই ব্যতিক্রমই ছিলাম। এই তো সাত মাস আগেই ভালোবেসে আমাকে এই পিয়ালাটি উপহার দিয়েছিল। যাতে লেখা আছে,
            Kwanele
      [ Kwaen-el-uh]
noun: most awesome &
World's greatest lover.
----আমি ওর জীবনে বিশ্ব বিখ্যাত ভালোবাসার মানুষ হয়েই এক সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিধাতা তা চাইলেন না। গত ছয়মাস আগে এক কার এক্সিডেন্টে Kwanele চলে যায় পরপারে আমায় একা ফেলে। আমি প্রায় এই ছয়মাসই পাগলের মতো ছিলাম। আজই প্রথম একটু মনে হয় স্বাভাবিক হতেই টেবিলে এই পিয়ালাটি দেখে অনেক আদর করে নাড়াচাড়া করতে ছিলাম। হঠাৎই হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যায়।
-----কথাগুলো বলছে আর হুহু করে কাদছে লোকটি। আমার মাঝেও যেন কান্নার এক ঢেউ খেলে যাচ্ছে।
-----ও, বলে,
Kwanele আমাকে ডাকছে। আমি আসি। আমার যে আর বেশি সময় নাই। আমি প্রায় স্বপ্নে ওকে দেখি।
ও, আমাকে প্রতিনিয়ত ডাকে। Kwanele বলে,
" I am alone here,
but I am wait for you longtime.
when you come here?
 I have a bed of rose.
I have a haven here,
this haven is a haven of rose.
-----আমি যাই, আমি যাই! ও, আমাকে ভীষণভাবে ডাকছে তাই।


 চোখ মুছতে মুতছে পাগলের মতো দৌড়ে চলে যায় আমার সামনে দিয়ে। আমি চেয়ে থাকি ভালোবাসার পাগলপারা নিগ্রো মানুষটার চলে যাওয়া পথের শেষসীমানার আশায়।
-----আমার চোখ থেকে অজান্তেই অবাধ্য কয়েক ফুটা বাঁধভাঙ্গা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে মাটির গায়। জানিনা, ভালোবাসার সম্মানে নাকি বিরহে গড়ায় আমার এ অশ্রুর? শুধু যে চোখের অশ্রুর গড়িয়ে পড়ার কথাছিল তাই পড়েছিল।
-----ভাবতেও অবাক লাগে, এই ভালোবাসার ভীষণ ক্ষরার দেশেও যে থাকতে পারে প্রকৃত প্রেমের প্রখর স্রোতধারা তা আমার জানা ছিল না।
-----মনেপ্রাণে সেলুট জানাই এমন প্রেমকে। তাই তো কবির ভাষায় বলতে হয়, "যেখানে দেখিবে ছাই, উড়ায়ে দেখো তাই। পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন"।
আমি মনে হয় প্রেমের অমূল্য রতনের সঠিক সন্ধ্যানই পেয়ে ছিলাম।
----তাইতো আমার মতো চুনোপুঁটি হয়েও এই ভাঙ্গা পিয়ালা নিয়ে কিছু লিখার বৃথা চেষ্টা করলাম মাত্র।
বি: দ্র: ভালো লাগলে দয়া করে লাইক ও কমেন্ট করে আপনাদের এমন লেখা প্রতিনিয়ত উপহার দেওয়ার উৎসাহ প্রদান করলে আমি উপকৃত হবো।

এম.ড়ি শিমুল, জোহান্সেবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা।

বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯

মা জননী

            আল মাহমুদ বিপ্লব

মায়ের সাদা কাফন

(৩০ শে জুলাই,২০১৮ ইং, সুবহে সাদিকের সময় আমার প্রিয় মা চলে যায় চিরতরে।তাঁরই স্মরণে নিচের লেখাটি। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি প্রিয় জননীকে)
♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦
অনেকদিন আগে ইউটিউবের ইসলামিক সংগীতের একটি চ্যানেল থেকে নিচের গানটি শুনেছিলাম, মায়ের কথা মনে পড়ার সাথে সাথে গানটি আবারও মনে পড়লো-
"পৃথিবীর একপাশে মাকে রেখে,
অন্য পাশেও মাকে রাখি।
পৃথিবীর সব কথা ভুলে গিয়ে,
ব্যাকুল প্রাণে মাকে ডাকি।
জীবনের সবখানে, সবগানে,
মাকে ছাড়া জীবনের নেই মানে।
মা হীন এলোমেলো হৃদয়ে,
আর কোন ঠিকানা কেউ কি জানে।"
সত্যি! মা ছাড়া কেউ মনের কথা বুঝে না,বুঝতে পারে না। মানুষ মরণশীল।এটা মেনে নিতেই হবে।সবকিছু কবরস্থ করা যায় না।
কিছু কিছু মৃত্যুর বেদনা ভুলা যায় না।
আমি সবাইকে ভুলতে পারলেও,সব স্মৃতি ভুলতে পারলেও, আমার মায়ের সাথে কাটানো স্মৃতিগুলোকে কোনোদিনই ভুলতে পারবো না। আমার মায়ের সাথে কাটানো অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে । সেসব স্মৃতির পাতা থেকে কিছু লেখা আপনাদের সাথে শেয়ার করে মনটাকে হালকা করতে চাই। আমি কেন মায়ের জন্য এতো পাগল তা নিচের কয়েকটি ঘটনা পড়লেই বুঝতে পারবেন।
#আমার মনে পড়ছে একদিন মা বলেছিল, আমার বড় ভাই ১৯৮৫ সালে মারা যাওয়ার পর মা ভূমিষ্ট করে দুটি মেয়ে ,তারপর ৪ বছর পর আমাকে ও ৭ বছর পর ছোটবোনকে ভূমিষ্ট করে । আমি ভূমিষ্ট হওয়ার আগে মা মান্নত করে বলেছিল,"আমার আবার একটি ছেলে হলে যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন আল্লাহর কাছে সপ্তাহে ১ টি করে নফল রোযা পালন করবো।
কথায় নয় বাস্তববিকভাবে তা করেছিল, মা আমার জন্য দীর্ঘ ২৫ টি বছরের প্রতিটি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দিন নফল রোযা পালন করেছে।
মাকে বলতাম,মাগো এত রোদ্রে রোযা রেখো না,শরীর খারাপ করবে,মা হেসে বলতো আরে বোকা ছেলে কিচ্ছু হবে না।বলতো এ নিয়ে তুই ভাবিস না,ঠিক মতো পড়াশোনা কর।
#আমাদের একসময় ভালো আর্থিক অবস্থা ছিল।পরে অভাবের সংসার হয়,
যার কারণে আমাদের চার ভাইবোনদের সব চাহিদা বাবা পূরণ করতে পারতো না। মা অনেক কিছু ত্যাগ করে আমাদের সব চাহিদা পূরণ করতো।
মনে পড়ে ২০০৩ সালে একদিন বায়না ধরেছিলাম- আমাকে মকমলের কাপড় কিনে দিতে হবে, না হলে স্কুলে যাবো না।সেসময় মকমলের কাপড় অনেক দামী ছিল। সেটার দাম ছিল ৩৮০০ টাকার মতো।
বাবাকে বলা মাত্রই বলেছিল, চুপ থাক,বেশি প্যাঁচাল পারবি না।টাকা নাই দিতে পারমু না।
মা তা দেখে বুকে টেনে নিয়ে বলেছিল,আমি মকমল কাপড় কিনে দিবো তোকে, স্কুলে যাওয়া বাদ দিবি না। সত্যি! মা,সেদিন ছাগল বিক্রি করে আমাকে মকমলের কাপড় কিনে দিয়েছিল। অথচ মায়ের পরনে তেমন ভালো কাপড় ছিল না।আমি বলেছিলাম,মাগো! তুমি একটা কাপড় কিনে নিয়ো।মা বলেছিল,আমার অনেক কাপড় রয়েছে।নিজের জন্য কোনদিন ভালো কোনো কাপড় কিনেনি।যা করতো সব আমার জন্য।মাঝেমধ্যে জোর করে নতুন কাপড় কিনে দিতাম। আজো মায়ের দেওয়া মকমলের কাপড়টি যত্ম রেখে দিয়েছি। দেখামাত্রই চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না।
#মা শিখিয়েছে ধার্মিকতা।
আমি তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি আল্লাহ ও রাসুল, মসজিদ,নামাজ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতাম না।
মা আমাকে কুরআন তেলওয়াত শিক্ষা দিয়েছিল। আমি একটু জেদি ছিলাম, টাকা ছাড়া স্কুলে যেতাম না। মা বলতো,নামাজ পড়লে ফেরেস্ততারা সদাই খেতে টাকা দেয়।নামাজ পড়ার পর জায়নামাজের নিচে মা পাঁচ টাকা রেখে দিতো, যেন নামাজ পড়ি।আমি পরে বুঝেছি যে মা টাকা রেখে দিয়েছিল।
মাগো! আমি সত্যি! ধন্য যে তুমি আমাকে নামাজী বানিয়েছো।
#মা আমাকে শিখিয়েছিল মানবতাবোধ।উদ্ধুদ্ধ করেছে মানব হিতৈষী কাজে।একদিন বালিজুড়ি হাইস্কুল মাঠে একজন পাগলির মৃত দেহ পড়েছিল। তার সর্বাঙ্গে ছিল পোকা, দেহ ঘায়ে ভরা। কেউ তাকে গোসল করাতে চাইলো না।আমি সেদিন দেখেছিলাম আমার মা নিজহাতে পাগলটিকে গোসল করায়ে নিজ হাতে কাফনের কাপড় পড়িয়ে দেয়।অনেকেই তাকে হেলা করতে শুরু করে।মা বলতো,আমি ঠিক কাজ করেছি,এরকম সবারই করা উচিত।আমাকে বলতো,যখনই কারো বিপদ দেখবি সাধ্যানুযায়ী পাশে দাঁড়াবি।মাগো! আমি তোমার নিকট থেকে মানবতাবোধের বাস্তব চিত্র শিখেছি।
#আমার মায়ের দুটি বিশেষ গুণ ছিল, তিনি সুস্বাদু রান্না তৈরি ও অপরকে মেহমানদারিতে পরিতৃপ্ত হতেন।
।এমন নারী এ সমাজে এখনো কি আছে ?
আমি মনে করি তেমন নেই। আমার মা এজন্য সবার চেয়ে অনন্য ছিল। আমার মা এজন্য সবার মন জয় করেছিল।
এরকম হাজারো স্মৃতির পিরামডি তৈরি করে চলে গেলো মা।
পৃথিবীতে একটি নাম মা। নামটি ছোট হলেও এর তাৎপর্য ও গভীরতা অনেক বেশি।
যে নামে রয়েছে অমৃত সুধা। যে নামের প্রশংসার কথা অবিরত লিখলেও শেষ হবে না।যে নামের দোয়ায় প্রভুর কাছে রয়েছে সফলতা ।
যে নামের বদদোয়ায় রয়েছে বিফলতা।
এ জীবনের সফলতা,বিফলতা নির্ভর করে পিতামাতার দোয়ার উপর। পৃথিবীতে প্রতিটি পিতামাতা তার সন্তানের নিকট মহাদামী সম্পদ।
এ সম্পদ দুটির যারা পরিপূর্ণ হক আদায় করে তারাই প্রকৃত সন্তান।পৃথিবীর বুকে পিতামাতার প্রতি সন্তানদের ভালবাসা ভিন্ন হলেও, সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালবাসা অভিন্ন।সন্তানের ভালবাসা লোক দেখানো হতে পারে,কিন্তু পিতামাতার ভালবাসা নিষ্কলুষ। মাতাপিতার দুজনের মধ্যে মায়ের মর্যাদা বেশি। কেননা,মা সন্তানকে পেটে ধারণ করে, কষ্ট ভোগ করার পর প্রসব করে, তারপর অনেক প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে সন্তানকে গড়ে তুলে। পৃথিবীতে সেই তো হতভাগ্য যার মা নেই। আমিও তেমন একজন হতভাগ্য।
★৩০/৭/১৮ ইং আমার জীবনে একটি বেদনাবিধুর তারিখ, সেই তারিখের রাত-২:৩০ ঘটিকার সময় আমাদের চার ভাইবোনকে কাঁদিয়ে মা চিরদিনের জন্য চলে যায় না ফেরার দেশে। মা,অনেকদিন যাবত তিনটি কঠিন মরণব্যাধিতে ভুগছিল,কিন্তু মুখ খুলে তা বলেনি। যখন তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে একদম অসহ্য হয়ে উঠেছিল তখন তিনি রোগের কথা বলেন। ততক্ষণে রোগ তিনটি নিরাময়ের বাইরে চলে গিয়েছিল। তারপরেও তা শুনামাত্রই আমরা তাকে নিয়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করা শুরু করি। মাদারগঞ্জ, জামালপুর,বগুড়া,ঢাকার নামকরা হাসপাতালসহ আরো অনেক জায়গায় নিয়ে যায়। এসব প্রতিটি জায়গায়  আমার বড় বোন,মেঝো বোন,হাকিম ভাই, এরশাদ ভাই, রিক্তা ভাবি ও বড় মামীর ভূমিকা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।
যাহোক,যেখানেই গিয়েছি প্রচুর টাকা খরচ আর চিকিৎসার নামে টেষ্ট বাণিজ্যে পড়েছি। কিন্তু রোগীর তেমন ট্রিটমেন্ট তারা করেনি।যা করেছে ডাক্তারেরা তা দ্বারা ওরা টাকা লুটে নিয়েছে। ডাক্তারেরা যে কি পরিমাণ মানবতাবিরোধী তা বুঝতাম না, যদি বিপদে না পড়তাম।সর্বশেষে মাকে নিয়ে গেলাম বাংলাদেশের
সর্বোচ্চ চিকিৎসালয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ১ মাস  থাকার পর একেরপর এক টেষ্ট করা শেষ করে তারা ফাইনাল রির্পোট দিলো যে, আমার মা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার বাঁচার সম্ভাবনা নেই। ডাক্তারেরা রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে দিলো । দৌড়াদৌড়ি ও অনেক টাকা খরচ,ত্যাগ-তিতিক্ষা করেও কোনরুপ কাজ হলো না। ব্যর্থ মনোরথে মাকে আগের তুলনায় আরো বেশি মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে এলাম। প্রচন্ড ব্যথায় মা তখন ছটফট করছে। অজস্র মানুষ মায়ের জন্য দোয়া করলো। তাঁর অসুস্থতা আরো তীব্র হতে লাগলো এক পর্যায়ে কথায় বলতে তাঁর কষ্ট হচ্ছিলো , এমন পরিস্থিতেও তিনি আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বুকের মাঝে জড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দোয়া করে দিলো।
চার ভাইবোনকে একত্রিত করে সবাইকে শেষ আদর করে দিলো আর বাকি সময় আল্লাহু নামের জিকির করতে করতে চললো তিনটি দিন। এক পর্যায়ে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল পরপারে। আমাদের ভাইবোনকে চির ইয়াতীম করে চলে গেল মা। চোখের সামনে ছটফট করে মা মারা গেল, চার ভাইবোন তেমন কিছুই করতে পারলাম না। এখানে সবাই অসহায়, নির্বাক, বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কেননা,বিধাতার বিধান, না মেনে কোন উপায় নাই। শেষ বিদায় জানিয়ে মাকে রেখে এলাম নির্জন নিরালায় একলা অন্ধকার ঘরে। মা আর কোনদিন আমাকে ভাত খেতে ডাকবে না আর খোঁজ নিবে না। মা যে চিরদিনের জন্য নিশ্চুপ হয়ে চলে গেল নিরব অভিমানে। মাগো,আমাদের চার ভাই-বোনকে মাফ করে দিয়ো, তোমার জন্য তেমন কিছুই করতে পারলাম না। তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না।আমরা নির্বাক হয়ে গেলাম বিধাতার বিধানের কাছে। এ এক নিঃসীম বেদনা।

#Omarfaruk

#Omarfaruk